মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

জেলার ঐতিহাসিক ও দর্শণীয় স্থান

জেলার ঐতিহাসিক ও দর্শণীয় স্থানসমূহের বর্ণনা

 

ভাটি অঞ্চলের জেলা কিশোরগঞ্জ। মসনদ-ই-আলা বীর সেনানী ঈশা খাঁর স্মৃতি বিজড়িত, নরসুন্দা নদী বিধৌত, হাওড় অধ্যুষিত এবং গ্রাম বাংলার শাশ্বত ররুপ বৈচিত্র ও সোনালী ঐতিহ্যের ধারক কিশোরগঞ্জের রয়েছে একটি সমৃদ্ধ পুরাণ, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি। আবহমান ধরে গ্রাম বাংলার পল্লী মায়ের পীযুষধারা স্নাত এবং স্নেহসিক্ত মাতৃক্রোড়ে লালিত এ সমৃদ্ধ জনপদ অনেকাংশেই বিস্মৃতির পথে। লোকচক্ষুর অন্তরালে লুকায়িত সমৃদ্ধ কিশোরগঞ্জের পর্যটন ও ঐতিহ্য।

এ জেলার পর্যটন ও ঐতিহ্য সম্পর্কিত বেশ কিছু স্থান অন্যতম। নিম্নে এসব স্থানের তালিকা ও ছবি দেয়া হলোঃ

 

  দর্শনীয় স্থানসমুহ

 

v        ঐতিহাসিক জঙ্গলবাড়ী ঃ ঈশা খাঁর দ্বিতীয় রাজধানী।

v        ঐতিহাসিক এগারসিন্ধুর দূর্গ ঃঈশা-খাঁর ঐতিহাসিক দূর্গ।

v        কবি চন্দ্রাবতীর শিবমন্দিরঃ বঙ্গের আদি মহিলা কবি চন্দ্রাবতীর স্মৃতিবিজড়িত মন্দির।

 

v        দিল­ীর আখড়াঃমোগল সম্রাট জাহাঙ্গীরের আমলে প্রতিষ্ঠিত দিল্লীর আখড়া।

v        শোলাকিয়া ঈদগাহঃ এশিয়া মহাদেশের সর্ববৃহৎ ঈদগাহ।

v        পাগলা মসজিদঃ আধূনিক স্থাপত্য শৈলীতে নির্মিত ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থাপনা।

 

v        শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতু

v        হাওড় অঞ্চলঃবিস্তীর্ণ বৈচিত্রের এক অপূর্ব লীলাভূমি।

v        সুকুমার রায়ের বাড়ীঃবিখ্যাত ছড়াকার ও শিশু সাহিত্যিক সুকুমার রায়ের পৈত্রিক বাড়ী।

 

v        জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজঃ দেশের সর্ববৃহৎ ও সর্বপ্রথম বেরসকারী মেডিকেল কলেজ

 

v        দূর্জয় স্মৃতি ভাস্কর্যঃজাতীয় উন্নতি, অগ্রগতি এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের প্রতীয় ভাস্কর্য  ।


 

ঐতিহাসিক জঙ্গলবাড়ী

 

বিবরণঃ

হাজরাদী পরগনা নামে খ্যাত জঙ্গলবাড়ীতে ঈশা খাঁ তাঁর দ্বিতীয় রাজধানী স্থাপন করেন। মধ্যযুগীয় অনুপম মুসলিম স্থাপত্য শৈলীতে নির্মিত তিনটি গমবুজ বিশিষ্ট একটি মসজিদ, দরবার গৃহ এবং লক্ষণ হাজরা নির্মিত পরিখা বেস্টিত দূর্গের ধ্বংসাবশেষ উজ্জ্বল অতীতের স্মৃতি বহন করে।

অবস্থানঃ

কিশোরগঞ্জ শহর থেকে ৬ কিঃ মিঃ পূর্বে করিমগঞ্জ উপজেলার কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নে জঙ্গলবাড়ীর অবস্থান।

জেলা সদর থেকে দূরত্ব ও যাওয়ার উপায়ঃ

জেলা সদরের সতাল চামড়া বাসস্ট্যান্ড হতে বাসে আমলীতলা বাসস্ট্যান্ডের আগে ‘ঈশাখা যাদুঘর’ লিখিত সাইনবোর্ড চিহিণত ঈশাখাঁ বাড়ী রাস্তায় নেমে রিক্সায় বা হেটে।

আবাসন ব্যবস্থাঃ

আবাসনের কোন ব্যবস্থা নেই।

উপজেলা সদর থেকে দূরত্ব ও যাওয়ার ব্যবস্থাঃ

করিমগঞ্জ উপজেলা সদর হতে এর দূরত্ব ৪ কিঃ মিঃ যাওয়ার        ব্যবস্থা রিক্সা ও বাসে।

 

 

 


ঐতিহাসিক এগারসিন্ধুর দূর্গ

 

বিবরণঃ

মোগল সেনাপতি মানসিংহের সাথে ১৫৯৫ খ্রীষ্টাব্দে সংঘটিত ঈশা-খাঁর ঐতিহাসিক যুদ্ধের স্মৃতিবাহী যুদ্ধক্ষেত্র। বর্তমানে উক্ত দুর্গের ধ্বংসাবশেষ ছাড়াও নিরগীন শাহ্, শাহ্ গরীবুল্লাহর সমাধি, শাহ্ মাহমুদের মসজিদ ভিটা ও বালাখানা অবস্থিত যা আজও কালের সাÿ্য বহন করে। এই এলাকাটি ষোড়শ শতাব্দীতে প্রসিদ্ধ নৌ-বন্দর হিসেবে খ্যাত ছিল। ব্রহ্মপুত্র নদের বাঁকে অবস্থিত এই নৌ-বন্দরে দেশ-দেশান্তর হতে বড় বড় বাণিজ্য তরী নিয়মিত নোঙর করত। আমির-ওমরাহ আর বণিকদের প্রসাদোপম আবাস ভবনের নয়নভিরাম সৌন্দর্যে এগারসিন্দুর একটি পর্যটন এলাকা হিসেবে গড়ে উঠে।

অবস্থানঃ

পাকুন্দিয়া উপজেলার এগারসিন্দুর ইউনিয়নে এর অবস্থান।

জেলা সদর থেকে দূরত্ব ও যাওয়ার উপায়ঃ

৩০ কিঃ মিঃ। যাওয়ার মাধ্যম বাস ও রিক্সা।

আবাসন ব্যবস্থাঃ

আবাসনের কোন ব্যবস্থা নেই।

 

 

 


কবি চন্দ্রাবতীর শিবমন্দির

 

বিবরণঃ

ষোড়শ শতকের মনসা মঙ্গলের বিখ্যাত কবি দ্বিজ বংশীদাসের কন্যা ও বঙ্গের আদি মহিলা কবিরূপে খ্যাত চন্দ্রাবতীর বহু কাহিনী সমৃদ্ধ এ মন্দিরটি খ্রিষ্টীয় ষোড়শ শতাব্দীতে নির্মিত। চন্দ্রবতী সম্ভবতঃ ১৬০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যনও জীবিত ছিলেন। পিতা ও কন্যা একত্রে মনসা দেবীর ভাসান ১৫৭৫ খ্রিষ্টাব্দে রচনা করেছিলেন।

অবস্থানঃ

 

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলাধীন মাইজখাপন ইউনিয়নের কাচারীপাড়া গ্রামে ফুলেশ্বরী নদীর তীরে কবি চন্দ্রাবতীর সুবিখ্যাত শিবমন্দিরটির অবস্থান।

জেলা সদর থেকে দূরত্ব ও যাওয়ার উপায়ঃ

এটি কিশোরগঞ্জ শহর থেকে ৬ কিঃ মিঃ । যাওয়ার মাধ্যম টেম্পু/রিক্সা।

আবাসন ব্যবস্থাঃ

কোন আবাসন ব্যবস্থা নেই।

 

 

 


দিল্ল­ীর আখড়া

 

বিবরণঃ

মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীরের আমলে প্রতিষ্ঠিত মোগল স্থাপত্য শৈলীর নিদর্শন সমবলিত এই দিল্লীর আখড়া। রামকৃষ্ণ গোঁসাইয়ের মতাবলমবী বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের এই আখড়াটিতে স্থাপিত প্রাচীন দেয়াল ও অট্রালিকা আজও দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা হিসেবে পর্যটকদের আকর্ষণ করে।

অবস্থানঃ

মিঠামইন উপজেলায় অবস্থিত।

আবাসন ব্যবস্থাঃ

কোন আবাসন ব্যবস্থা নেই।

 

 

 

 

 

 

 


শোলাকিয়া ঈদগাহ

 

বিবরণঃ

এশিয়া মহাদেশের সর্ববৃহৎ ঈদগাহ হিসেবে শোলাকিয়া ঈদগাহ সর্বজন বিদিত। এ ঈদগাহে ঈদের জামায়েতে প্রায় দু’লক্ষাধিক ধর্মপ্রাণ মুসুল্লীগণ পবিত্র ঈদের নামাজ আদায় করে থাকেন। কথিত আছে যে, বহু বছর আগে এই ঈদগাহের একটি জামাতে সোয়ালাখ মুসুল্লীর সমাগম ঘটেছিল। এ সোয়ালাখ শব্দটিই পরবর্তীতে ‘শোলাকিয়া ঈদগাহ’ নামে পরিচিত হয়ে উঠে।

অবস্থানঃ

কিশোরগঞ্জ শহরের পূর্বপ্রান্তে প্রায় ৬.৬১ একর জমিতে অবস্থিত।

 

জেলা শহরের পূর্বপ্রান্তে অবস্থিত। উক্ত ঈদগাহে যাওয়ার সহজ উপায় শহরের যে কোন স্থান হতে রিক্সা।

 

 

 

 

 

 

 

আবাসন ব্যবস্থাঃ

কিশোরগঞ্জশহরে বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে আবাসনের ব্যবস্থা রয়েছে। শহরের ক্যাসেল সালাম, গাংচিল এবং হোটেল উজানভাটি, হোটেল শ্রাবনী, হোটেল আলমোবারকসহ আরো অনেক আবাসিক হোটেল রয়েছে।

 

 

 

পাগলা মসজিদ

 

বিবরণঃ

আধূনিক স্থাপত্য শৈলীতে নির্মিত পাগলা মসজিদটি নানা ধরণের ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থাপনা হিসেবে খ্যাত। জনশ্রম্নতি আছে যে, পাগলবেশী এক আধ্যাত্মিক পুররুষ খরস্রোতা নরসুন্দা নদীর মধ্যস্থলে মাদুর পেতে ভেসে এসে বর্তমান মসজিদের কাছে স্থিতু হন এবং তাঁকে ঘিরে আশে পাশে অনেক ভক্তকূল সমবেত হন। উক্ত পাগলের মৃত্যুর পর তাঁর সমাধির পাশে পরবর্তীতে এই মসজিদটি গড়ে উঠে তাই কালক্রমে এটি পাগলা মসজিদ নামে পরিচিত হয়। মসজিদটি শুধু ইসলাম ধর্মাবলমবীর কাছেই নয়, সকল র্ধমাবলমবীর কাছে অত্যন্ত পবিত্র ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবে পরিগণিত। অনেকের বদ্ধমূল বিশ্বাস যে, কেহ সহি নিয়তে এ মসজিদে দান খয়রাত করলে তার ইচ্ছা পূর্ণ হয়।

অবস্থানঃ

কিশোরগঞ্জ শহরের হারুয়া নামক এলাকায় অবস্থিত।

জেলা সদর থেকে দূরত্ব ও যাওয়ার উপায়ঃ

শহরের হারুয়া এলাকায় অবস্থিত। যাওয়ার সহজ উপায় শহরের যেকোন স্থান হতে রিক্সা

আবাসন ব্যবস্থাঃ

কিশোরগঞ্জশহরে বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে আবাসনের ব্যবস্থা রয়েছে। শহরের ক্যাসেল সালাম, গাংচিল এবং হোটেল উজানভাটি, হোটেল শ্রাবনী, হোটেল আলমোবারকসহ আরো অনেক আবাসিক হোটেল রয়েছে।

 

 

মানব বাবুর বাড়ি,হোসেনপুর,কিশোরগঞ্জ

জমিদারি নেই, কিন্তু বাড়িটা আছে। বাবুরাও আছেন। প্রয়াত জমিদার ভূপতিনাথ চক্রবর্তী চৌধুরীর দুই ছেলেকে স্থানীয় লোকজন বাবু বলেই ডাকে। ঢাকা থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরত্বে কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নে গাঙ্গাটিয়া জমিদারবাড়ি। ১৯০৪ সালে জমিদারির পত্তন হয়। ব্রিটিশ জেপি ওয়াইজ দেশে ফিরে গেলে তাঁর জমিদারির একটা অংশ কিনে নেন গাঙ্গাটিয়ার চক্রবর্তীরা। তাঁদের পূর্বপুরুষ ভোলানাথ চক্রবর্তী উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময় আইন ব্যবসা করে বেশ আয়-রোজগার করেন। সেই থেকে চক্রবর্তীদের উত্থান। শুধু অর্থবিত্তেই নয়, সংস্কৃতিচর্চায়ও তাঁরা অগ্রসর ছিলেন। সেসবের কিছুটা আজও লালন করছেন শেষ উত্তরাধিকার মানবেন্দ্রনাথ ও তপন কুমার চক্রবর্তী। বাড়িটি তাঁরা যত্নে রেখেছেন।

ছবি


সংযুক্তি

doc.doc doc.doc